একটি বাচ্চা ছেলে টিভি দেখছে। টিভিতে দেখাচ্ছে তৃষ্ণার্ত এক কিশোর পানির ট্যাপ এর নীচে হাত পেতে রয়েছে। ফোঁটায় ফোঁটায় পানি পড়ছে যা এতোই কম যে হাতের কোশে জমছে না। ঠিক তখন টিভি দর্শকের বাবা বেসিনে মুখ ধুয়ে মাত্র সরে গিয়েছেন। কিন্তু কলটি ভালো করে বন্ধ করা হয়নি। পানি পড়ছে। টিভির রিমোট রেখে ছেলেটি দৌঁড়ে এসে কল যেই কল বন্ধ করলো, টিভিতে দেখানো ছেলেটির কলেও পানি আসলো। প্রাণ ভরে সে চুমুক দিচ্ছে।
''বুয়া, বাথরুমের কলটা ছেড়ে দাও। বালতি ভরুক। গোসল করবো।'' বলে রিমোট হাতে নিয়ে বসে গেলাম টিভি দেখতে। এক বালতি ভরে তিন বালতি যখন নষ্ট হলো তখন অন্য কেউ বাথরুমে ঢুকতে গিয়ে বললো, ''কল ছেড়েছে কে?'' তখন হুঁশ হলো।
শাওয়ার ছেড়ে দিয়ে গুনগুনিয়ে এলবামের সবগুলো গান গাওয়া শেষ হয়ে গেলেও গোসল শেষ হচ্ছে না।
ওজু করতে বসে যখন দোয়া পড়ছি তখনও এক সারিতে সবগুলো কল চলছে ননষ্টপ।
বাসায় এসে পানির ট্যাপ ছেড়ে এক ফোঁটাও পানি নেই দেখে গালি দিয়ে বলছি, ''পানিই দিতে পারে না। আবার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়বে।'' অথচ খোলা ট্যাপটি আর বন্ধ করছি না। পরে পানি এসে বাথরুম ভেসে যাচ্ছে।
পত্রিকায় খবর দেখছি, ''গর্ত করে ১৫/২০ ফুট নীচে শ্যালো মেশিন বসিয়েও পানি পাওয়া যাচ্ছে না।'' মনে কোন বিকার আসছে না।
এ পোষ্টটি যখন দেখছি, বাথরুমের নষ্ট কলটি দিয়ে তখন সরু ধারায় পানি পড়ছে। পড়ছে সারা বছর। কলটি বদলানোর কথা মাথায় আসছে না...
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বলে থাকে ''আগুন নেভানোর চেয়ে ঠেকানো উত্তম''
ঠেকাবো কিভাবে বৈদ্যুতিক তার পরীক্ষা করবো। ইস্ত্রিতে সংযোগ থাকাবস্থায় সরে যাবো না। খোলা বাতি পরিহার করবো। পরিহার করা সম্ভব না হলে সাবধানে ব্যবহার করবো। সম্ভব হলে ফায়ার এষ্টিঙ্গুইশার রাখবো। মাঝে মধ্যে তা পরীক্ষা করবো। রান্নাঘর কাঁচা হলে বেড়ার উপর পুরু করে মাটির প্রলেপ দেবো। ধুমপান বর্জন করবো। না পারলে অতি সাবধানে ধুমপান করবো। পাসওয়ার্ড কনফার্মেশনের মতো সিগারেটের অবশিষ্টাংশ সজ্ঞানে নেভাবো। নিভিয়ে নিশ্চিত হবো। শুধুমাত্র ঘরে সাজিয়ে রাখার জন্য অপ্রয়োজনীয় দাহ্য কোন বস্তু ব্যবহার করবো না। নিজের নাম্বারের মতো ফায়ার সার্ভিসের নাম্বারটিও মনে রাখবো। টেলিফোনের গায়ে নিজের নাম্বারের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের নাম্বারটিও লিখে রাখবো।
নেভাবো কিভাবে প্রথম কাজ হচ্ছে নিজে বিচলিত বা আতঙ্কগ্রস্ত না হওয়া এবং অন্যকেও হতে না দেয়া। আগুন কোথায়, সত্যিই আগুন কি-না তা জানতে হবে। প্রাথমিক অবস্থায় আগুন নেভানো সহজ। তাই তখনই সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। ফায়ার সার্ভিসেও খবর দিতে হবে। ফায়ার সার্ভিস পাওয়া পর্যন্ত মোকাবেলা করতে হবে। প্রথমেই বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ বন্ধ করতে হবে। আগুন তেল জাতীয় না হলে যতটা সম্ভব পানি নিক্ষেপ করতে হবে। তেল থেকে সৃষ্ট আগুনের ক্ষেত্রে কম্বল, কাঁথা, খালি বস্তা বা ছালা ভিজিয়ে চাপা দিতে হবে। সেই সাথে আশপাশের দাহ্য বস্তু সরিয়ে নিতে হবে। এমনকি আশপাশে কাঁচা ঘর থাকলে ভেঙ্গে ফেলতে হবে। আগুন উর্ধ্বমুখী। তাই ৫ তলা ভবনের ৩য় তলায় লাগলে প্রথমে ৩য়, এরপর যথাক্রমে ৪র্থ ও ৫ম তলার লোকজনকে বেরিয়ে আসার সুযোগ দিতে হবে। এরপর যথাক্রমে দোতলা ও নীচতলা থেকে বেরিয়ে আসবে।
মনে রাখবো মনে রাখবো, আগুনে পুড়ে নয়, আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে অগ্নি-দূর্ঘটনায় বেশীর ভাগ মানুষ মারা যায়। তথ্য পাওয়ার ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস পথে বেরিয়ে আসে। কিন্তু দূরত্ব, যানজট, অপ্রশস্ত রাস্তা, পানির উৎস, বিচলিত/ উৎসাহী মানুষের ভিড়, অগ্নি নির্বাপনী সরঞ্জাম নিয়ে টানা-হেঁচড়া ইত্যাদি- কাজ শুরু করতে বিলম্ব ঘটায়।
সূত্রঃ ১। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রচারপত্র। ২। স্বেচ্ছাসেবকের নিকট থেকে সংগৃহীত তথ্য।
হৃদয়ের কথা কেন থেমে যায় হার্ট অ্যাটাক। যে সকল রক্তনালীর মাধ্যমে আমাদের হৃদপিন্ডে প্রতি মুহূর্তে রক্ত সঞ্চালিত হয়, কোন কারণে তা বন্ধ হয়ে গেলে হয়।
বুঝবো কি করে বুকের বাম দিকে তীব্র ব্যাথা। এ ব্যাথা বাম হাতে নামতে পারে। গলায়, চোয়ালে, এমনকি দাঁতেও ছড়িয়ে যেতে পারে। ব্যাথায় রোগী কিছুক্ষণের মধ্যে নিস্তেজ এমন কি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। হৃদস্পন্দন অনিয়মিত, অস্বাভাবিক দ্রুত বা ধীর হয়ে যেতে পারে। হৃদস্পন্দন এবং শ্বাসক্রিয়া বন্ধও হয়ে যেতে পারে। প্রচুর ঘাম। বমি ভাব অথবা বমি। ঠোঁট, হাত-পায়ের তালু নীলবর্ণের হয়ে যেতে পারে।
তবে দুঃশ্চিন্তার বিষয় অতি বৃদ্ধ এবং দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির বুকে কোন রকম ব্যাথার অনুভুতি ছাড়াও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তাই এদের ক্ষেত্রে ত্বড়িৎ ব্যবস্থা নেয়ার মতো সময় থাকে না।
সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, দীর্ঘক্ষণ হাঁটা, দৌড়ানো বা ভারী কাজ করলে অনেকেরই বুকে মৃদু ব্যাথা হয় যা বিশ্রাম নিলে কমে যায়। কিন্তু বিশ্রাম নিলে বা নাইট্রোগ্লিসারিন জাতীয় ঔষধে এ ব্যাথা না কমলে সাবধান- খুব শীঘ্রই এবং যে কোন সময় আপনার হার্ট অ্যাটাক হতে যাচ্ছে।
কিভাবে কি করবো যা করবেন, সুপারম্যানের মতো করবেন। দ্রুত অথচ সাবলীল। জামা কাপড় সুতি হলে ঢিলা করে দিন। সিনথেটিক হলে কেটে ফেলুন। ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন। দরজা জানালা খুলে দিন। ফ্যান/ হাতপাখা ব্যবহার করুন। ঘরের লোকজন কমিয়ে দিন। টুকরো সুতি কাপড় দিয়ে মুখ গহবর ধীরে ধীরে পরিস্কার করে দিন। পানি খেতে চাইলে সরাসরি না দিয়ে ঠোঁট জিহ্বা আলতো করে ভিজিয়ে দিন। হৃদপিন্ডের কাজের চাপ কমিয়ে দিন। কথা বলা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিন। মাংসপেশীর কাজ বন্ধ করে দিন অর্থাৎ সম্পূর্ণ বিশ্রাম দিন। তবে শুয়ে নয় অর্ধবসা অবস্থায়। মাথার দিকে বালিশ উঁচু করে দিন। কিন্তু যদি অজ্ঞান হয়ে গিয়ে থাকে তবে প্রথমেই শ্বাস-প্রশ্বাস ফিরিয়ে মাথা একদিকে কাত করে শুইয়ে দিতে হবে।
শ্বাস-প্রশ্বাস ফিরিয়ে আনবো কি করে
চিৎ করে শুইয়ে দিন। পাশে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ুন। বুকের মাঝখানে আপনার এক হাতের উপরে অপর হাত রেখে মিনিটে ৮০ বার হিসেবে নিয়মিত বিরতিতে চাপ দিতে থাকুন। প্রতি ১৫ বার চাপ দিয়ে হৃদস্পন্দন ফিরে আসছে কিনা, লক্ষ্য করুন।
যতো দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে প্রেরণ করুন।
সূত্রঃ ১। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রচারপত্র। ২। বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শ। ৩। রোগীদের নিকট থেকে সংগৃহীত তথ্য।
ইজিপ্টাইয়ের দায়িত্ব নগর, সিটি, শহর ও উপশহরাঞ্চলে কামড়ানো। হাইরাইজ বিল্ডিং- এর ২০/৩০ তলায়ও অনায়াসে এরা পৌঁছে যায়। আর এলবোপিক্টাস কামড়ায় গ্রামে।
এ মশাদের কেউ কেউ ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করে, কেউ করে না। ভাইরাসবাহী কোন মশা যাকে কামড়ায় তার শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাস প্রবেশ করে। কামড়ানোর ৪ থেকে ৬ দিনের মধ্যে আক্রান্ত করে। জীবাণু বহন করছে না এমন কোনটি আক্রান্ত ঐ ব্যক্তিকে কামড়ানো মাত্রই তা ভাইরাস বাহকে পরিণত হয়। আর এভাবেই এ মশার কর্মপরিধি বাড়তে থাকে। এ চক্র চলতেই থাকে।
মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা
এ মশার ডিমও সংক্রমিত হয়। ঐ ডিম থেকে যে মশার জন্ম তা আরও মারাত্মক। জন্মসূত্রে ভাইরাসবাহী এ মশা তার গোটাজীবন ধরে আমাদের বিরুদ্ধে এ্যাকশন চালিয়ে যেতে থাকে। তবে আমাদের ভাগ্য ভালো যে, ভাইরাস বহন না করলে এডিস মশার গড় আয়ু প্রায় ১ মাস। আর ভাইরাস বাহকের আয়ু মাত্র ৮/১০ দিন।
কেন কামড়ায়
ডিম্ব পরিস্ফুটন ও বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যের প্রয়োজন মেটাতে।
কোথায় থাকে
এরা পরিস্কার আবদ্ধ পানিতে থেকে বংশ বিস্তার করে আর দিনের আলোতে বিশেষ করে বিকেলে এবং খুব সকালের মৃদু আলোয় আমাদের বংশ ধ্বংস করে অর্থাৎ দিনে কামড়ায়।
ঠিকানা
পরিত্যক্ত পাত্র বা স্থান যেখানে পরিস্কার পানি ৫ দিনের বেশী সময় ধরে জমে থাকে।
যেমন- ফুলদানী, ফুলের টব, মাটি/ চিনামাটির পাত্র, গাছের কোটর, বাঁশের গর্ত, মাটির গর্ত, ঢাকনাবিহীন পানির ট্যাঙ্ক, বালতি, ড্রাম, প্লাষ্টিকের কৌটা, এ্যাকুরিয়াম, ফ্রিজ/এসির নীচে, বাড়ীর ছাদে/ ইটের উপরকার অক্ষরখচিত অংশে জমে থাকা পানি এবংফেলে দেয়াঃ-
খালি চোখে সাধারণ মশার মতোই মনে হয়। আকারে কিছুটা বড়ো। ম্যাগনিফাই করলে এর সারা শরীরে সাদা সাদা দাগসহ বুকের দুপাশে কাস্তের মতো দুটি সাদা 'ডেঞ্জার সাইন' দেখা যায়।
আমাদের উদ্দেশ্য
১। এ মশার বংশ বৃদ্ধি রোধ করা।
২। ডেঙ্গু প্রতিরোধ।
কিভাবে কি করবো
এদের ঠিকানায় যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে তা ধ্বংস করে ফেলা।
যা ধ্বংস করা সম্ভব নয় তাতে যেন ৫ দিনের বেশী সময় ধরে পানি জমে না থাকে তা নিশ্চিত করা।
গাছের কোটর/ বাঁশের গর্ত মাটি বা সিমেন্ট দিয়ে বন্ধ করা।
খুঁটি বা বেড়ার বাঁশ গিঁট ঘেঁষে এমনভাবে কেটে দেয়া যেন পানি জমতে না পারে।
দিনে ঘুমাতে মশারী অস্বস্তিকর হলেও ব্যবহার করা।
খুব সকালে ফ্যানের বাতাস পুরোটাই খাওয়ার জন্য মশারী গুটিয়ে আবার ঘুমিয়ে না পড়া।
উপসর্গ
উপসর্গ দু'রকম। একটি ক্লাসিক্যাল অপরটি হিমোরেজিক।
ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ
হঠাৎ ১০৪-১০৫ ডিগ্রী জ্বর ওঠা।
চোখের পেছনে, মাথা, মাংসপেশী ও হাড়ে অসহনীয় ব্যাথা।
বমি ভাব বা বমি।
ত্বকে লালচে ছোট ছোট দাগের আবির্ভাব।
হিমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ
ক্লাসিক্যাল উপসর্গের পাশাপাশি ত্বক, খাদ্যনালী, নাক, মুখ, গলা, মস্তিস্ক, বুক ও যৌনাঙ্গ দিয়ে রক্তক্ষরণ।
কালো রঙের মল।
চিকিৎসা
রোগীকে বিশ্রামে রাখা।
তাজা ফলের রস ও প্রচুর পরিমাণ ওরস্যালাইন খেতে দেয়া।
চোখের পেছনে, মাথা, মাংসপেশী ও হাড়ের অসহনীয় ব্যাথা থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তিদানের লক্ষ্যে এসপিরিন, ডাইক্লোফেনাক, ষ্টেরয়েড বা এন্টিবায়োটিক কোন ঔষধ খেতে না দেয়া। এমনকি ডোজ সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে প্যারাসিটামলও খেতে না দেয়া।
সতর্কতা
ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বর চিকিৎসা ছাড়াই ৭ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। কিন্তু ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরে সংক্রমিত কেউ ডেঙ্গু- ১, ২, ৩ ও ৪- এ চার ধরণের ডেঙ্গু ভাইরাসের মধ্যে অপর একটি দ্বারা আবার সংক্রমিত হলে হিমোরেজিক হয়ে যায়। হেমোরেজিকের ক্ষেত্রে উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন চিকিৎসার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় রোগী বাঁচানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
উপসংহার
ভয় পাওয়ার কিচ্ছু নেই। ডেঙ্গু থেকে বাঁচবো আমরা। বাঁচাবো সবাইকে। এ সতর্কতা ছড়িয়ে দেবো সারা দেশে। গোটা বিশ্বে।
সূত্রঃ ১। প্রায় ৭ বছর আগে কুড়িয়ে পাওয়া দৈনিক ইত্তেফাকে ডাঃ গোলাম মোর্শেদ এর প্রতিবেদন।